১৮২ রানের বিশাল লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়ের ১১৫ রানের উদ্বোধনী জুটি জয়ের পথ সহজ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের।এরপর ইমরুল কায়েস আর শেষদিকে থিসারা পেরেরার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে খুলনা টাইটান্সকে ৩ উইকেট আর ২ বল হাতে রেখেই হারিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।ছয় ম্যাচে এটি তামিমদের চতুর্থ জয়।

শুক্রবারে(১৮ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিলেট পর্বের ৩য় দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় খুলনা। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের করা ইনিংসের প্রথম ওভারেই শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন জহুরুল ইসলাম অমি।

দ্বিতীয় উইকেটে আল আমিনকে নিয়ে ৭১ রানের জুটিতে সে ধাক্কা কাটিয়ে উঠেন জুনায়েদ।জুনায়েদের ৪১ বলে ৪টি করে চার ছক্কায় ৭০ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংসের ভর করে বড় সংগ্রহের দিকে আগায় খুলনা।
১৯ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় আল আমিনও খেলেন ৩২ রানের এক ঝড়ো ইনিংস। চলতি বিপিএলে এটা তার প্রথম ম্যাচ। তাকে বোল্ড করেন শহীদ আফ্রিদি।

খুলনার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ এসেও মারমুখী ব্যাট শুরু করেন। তাকেও থামিয়ে দেন আফ্রিদি। ব্যক্তিগত ১৬ রানে (৯ বলে) সাজঘরে ফেরেন খুলনার অধিনায়ক।

২৫ বলে ২৯ রান করেন খুলনার ইংলিশ ক্রিকেটার ডেভিড মালান।কার্লোস ব্র্যাথোয়েটের ৯ বলে ১২ ও আরিফুল হকের ৯ বলে ১৩ রানে ভর দিয়ে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে খুলনা। নির্ধারিত ২০ ওভার ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৮১ রান সংগ্রহ করেছে খুলনা।

বল হাতে কুমিল্লার শহীদ আফ্রিদি ৪ ওভারে ৩৫ রান খরচে তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন ওয়াহাব রিয়াজ আর ১ উইকেট গেছে সাইফউদ্দিনের দখলে।

জয়ের জন্য ১৮২ রানে বড় লক্ষ্য ছিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সামনে।অথচ কুমিল্লার ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল অসাধারণ। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ও এনামুল গড়েন ১১৫ রানের জুটি, যা এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

সবশেষ দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া তামিম, সিলেটের বিপক্ষে শুক্রবার অসাধারণ ব্যাটিং করেন। চলতি আসরে নিজের প্রথম ফিফটির দেখা পাওয়া বাঁহাতি ড্যাশিং ওপেনার তামিম মাত্র ৪২ বল খেলে ৭৩ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথ দেখিয়ে বিদায় নেন। লঙ্কান পেসার লাসিথ মালিঙ্গার শিকার হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১২ চার ও ১ ছক্কার মার।তামিমের বিদায়েই হুট করেই খেই হারিয়ে ফেলে কুমিল্লা।

এর কিছুক্ষন পরেই খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে আরেক ওপেনার এনামুল বিজয়ও ৩৭ বলে ৫ চারে ৪০ রান করে বিদায় নেন।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শামসুর রহমান (১) ও লিয়াম ডসন (৪)। শামসুর কাটা পড়েন রান আউটের খাড়ায় পড়ে। আর ডসনকে তুলে নেন পাকিস্তানি পেসার জুনায়েদ খান। কুমিল্লার অন্যতম ভরসা শহীদ আফ্রিদি ৯ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ১২ রান করে ওই জুনায়েদের বলেই বিদায় নেন।১১ বলে ২৮ করেন ইমরুল।

১৮.৩ বলে ১৬৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারানো কুমিল্লা এরপর একই ওভারে হারায় জিয়াউর রহমানের (০) উইকেট। আর শেষদিকে ৭ বলে ২ চার আর ১ ছক্কায় ১৮ রান নিয়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন থিসারা পেরেরা।

বল হাতে খুলনার হয়ে ৪ ওভারে ৩২ রান খরচ করে তুলে নেন ৪ উইকেট জুনায়েদ খান। ৪ ওভারে মালিঙ্গা ২২ ও মাহমুদউল্লাহ ৩৬ রান খরচ করে নেন ১টি করে উইকেট।

দুই জয় দিয়ে সিলেট পর্ব দারুণভাবে শেষ করল কুমিল্লা। ঢাকায় জয়ের মুখ না দেখা খুলনা এখানে এসে পেয়েছিল প্রথম জয়। আজ আবার হারল তারা। আগামীকাল তাদের শেষ ম্যাচ চিটাগংয়ের বিপক্ষে। জয়ে তারা শেষটা রাঙাতে পারে কিনা সেটা দেখার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

খুলনা টাইটানস: ২০ ওভারে ১৮১/৭ (জুনায়েদ ৭০, আল-আমিন ৩২, ডেভিড মালান ২৯; আফ্রিদি ৩/৩৫)।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ১৯.৪ ওভারে ১৮৬/৭(তামিম ৭৩, বিজয় ৪০, ইমরুল ২৮, পেরেরা ১৮*; জুনায়েদ ৪/৩২)।

ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৩ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: তামিম ইকবাল (কুমিল্লা)।

LEAVE A REPLY