ঢাকা-সিলেট মাঠে উড়তে থাকা চিটাগাং ভাইকিংসের ঘরের মাঠে এ যেনো এক হতাশার রাত।ব্যাট হাতে চিটাগংয়ের বোলারদের রীতিমত তুলোধুনো করলেন রংপুরের অ্যালেক্স হেলস ও রাইলি রুশো।টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে দুই সেঞ্চুরির অনন্য কীর্তি গড়ে দুজনে মিলে রংপুর রাইডার্সকে এনে দিলেন রেকর্ড সংগ্রহ।রংপুরের রেকর্ডের এই দিন ঢাকাকে টপকিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠা চিটাগাংকে হারতে হয়েছে ৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে।

সন্ধ্যায় আজকের দিনের(২৫ জানুয়ারী,শুক্রবার) দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান সংগ্রহ করে রংপুর। বিপিএলের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। এর আগে ২০১৩ সালের আসরে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ঢাকা ডায়নামাইটসের ২১৭ রান ছিল সর্বোচ্চ স্কোর।

ব্যাটিংয়ে নেমে রাইডার্স ওপেনার ক্রিস গেইল হতাশ করে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই। আবু জায়েদের বলে ব্যক্তিগত ২ রানেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি।

এরপর বাকিটা ইতিহাস।গেইল গেলেও ব্যাটে ঝড় তোলেন হেলস। মাত্র ৪৮ বলে ১১টি চার আর পাঁচটি ছয়ে করেন ১০০ রান। বরাবর শতক হাঁকিয়েই ফেরেন সিকান্দার রাজার বলে ক্যাচ দিয়ে।
হেলসের শতকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অর্ধশতক হাঁকানো রিলে রুশোও শতক তুলে নেন হেলসের বিদায়ের পর।৫১ বলে তার অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসটি ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজান তিনি।

এই দুজনের জুটি থেকে আসে ১৭৪ রান।
হেলস আর রুশোর দুই শতকে বিপিএল পায় নতুন রেকর্ড।চলতি বিপিএলের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিলেন হেলস, তৃতীয় সেঞ্চুরি এলো রুশোর ব্যাট থেকে।

শেষদিকে ১০ বলে ১৫ রানের ছোট ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ মিঠুন। আর মাত্র ৪ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ১১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে রেকর্ড গড়তে সহায়তা করেন নাহিদুল ইসলাম।

ভাইকিংসের হয়ে ২ উইকেট নেন আবু জায়েদ। ১টি করে উইকেট নেন রবিউল হক আর সিকান্দার রাজা।

রংপুরের দেয়া রেকর্ড রান তাড়া করার লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২৮ রানে ভাঙে ভাইকিংসের ওপেনিং জুটি। ব্যক্তিগত ২০ রানের মাথায় মোহাম্মদ শাহাজাদকে ফেরান ফরহাদ রেজা।
এরপর দুই নম্বরে ব্যাট করতে আসা সিকান্দার রাজাকে ৩ রানে ফেরান রাইডার্স দলনেতা মাশরাফি মুর্তজা। চার নম্বরে ব্যাট করতে এসে ওপেনার ইয়াসির আলীর সঙ্গে ভাইকিংস অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম শুরু করেন দুর্দান্ত ইনিংস।

শফিউল ইসলামকে এক ওভারে হাঁকান তিন ছয়। শেষ পর্যন্ত ১১ বলে ২২ রান করে থামেন নাজমুল অপুর বলে।

মুশফিকের বিদায়ের পর নাজিবুল্লাহ জার্দানকে ১ রানে ফেরান শহিদুল ইসলাম। এরপর ১৪ রানে মোসাদ্দেক হোসেনকে ফেরান মাশরাফি। ভাইকিংসের হয়ে একাই লড়াই করে যাওয়া ইয়াসির আলীকেও ফেরান মাশরাফিইই।

৪৮ বলে ছয়টি চার আর তিন ছয়ে ৭৮ রানের মাথায় ডি ভিলিয়ার্সের কাছে ক্যাচ দেন এই ওপেনার।
ইয়াসিরের বিদায়ের পর বাকি ব্যাটসম্যানরা মিলে আর রংপুরের রেকর্ড রান টপকাতে পারেনি ভাইকিংসরা। ৭২ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
রংপুরের হয়ে মাশরাফি নেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট নেন ফরহাদ রেজা আর ১টি করে উইকেট নেন নাজমুল অপু আর শাহিদুল ইসলাম।

LEAVE A REPLY