ঢাকাকে হারিয়ে বিপিএলে কুমিল্লার দ্বিতীয় শিরোপা জয়

গত ৫ জানুয়ারি শুরু হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ(বিপিএল) ষষ্ঠ আসর দেখতে দেখতে শেষ হলো আজ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ঢাকা ডায়নামাইটসের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের মধ্যে দিয়ে।আজ এই মহারণে লড়াইয়ে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তামিমের ব্যাটিং তান্ডবে ১৯৯ রান করে কুমিল্লা। জবাবে ১৮২ রানে থেমে যায় ঢাকার ইনিংস। ফলে ১৭ রানে বিশাল ব্যবধানে ঢাকাকে হারিয়ে বিপিএলে দ্বিতীয় বারের মতোন শিরোপা জিতে নিলো কুমিল্লা।

কুমিল্লার এই জয়ের নায়ক যে তামিম ইকবালই।যেটার বড় প্রমান ম্যাচের শেষ বলটি মাঠে গড়াতেই যখন তামিমকে কাঁধে নিয়ে কিছু দূর অতিক্রম করলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের এক কতকর্তা। যেন মাঠে উপস্থিত সবাইকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন এই আমাদের শিরোপা জয়ের নায়ক। সত্যিই তো তাই তার ব্যাটিংয়ের উপর ভর করেই ১৯৯ রানের পাহাড়সম ইনিংস দাঁড় করার কুমিল্লা।৬১ বলে অপরাজিত ১৪১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে কুমিল্লাকে দ্বিতীয় শিরোপা এনে দিয়েছেন এই ড্যাশিং ওপেনারই।

এর আগে টসে হেরে আজ শুক্রুবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।তবো শুরুটা যেমন হয়েছিল, কেউ হয়তো ধারণা করতে পারেনি এই দলটি দুইশ ছুুঁইছুঁই পুঁজি গড়ে ফেলবে? ৭ ওভার শেষে দলের রান ছিল ১ উইকেটে ৪৪। ব্যক্তিগত ৬ রান করে রুবেলের বলে আউট হন লুইস। তবে এই দিনই ঝড় ওঠে মিরপুরে। আর সেই ঝড়ের নাম তামিম ইকবাল। ঢাকার বোলারদের তুলোধোনা করে একের পর এক বল উড়িয়ে গড়িয়ে করতে থাকেন সীমানা ছাড়া।

দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালের এটিই প্রথম বিপিএল ফাইনাল। আর তাতেই বাজিমাত করে ঝড়ো সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই ‘ড্যাশিং’ ব্যাটসম্যান। এটি চলতি আসরের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। মাত্র ৫০ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েও থামেন নি, বরং ব্যাট হাতে বোলারদের কচুকাটা করে গেছেন শেষ পর্যন্ত।

৬১ বলে ১৪১ রান নিয়ে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছেড়েছেন তিনি, যা বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। তার আগে আছেন শুধু ক্রিস গেইল। গত আসরে ১৪৬ রান করেছিলেন এই ক্যারিবীয় দানব।

তামিমের ব্যাটিংয়ের কারনে রীতিমত চেয়েচেয়ে দেখেন অপর প্রান্তে থাকা এনামুল হক বিজয়। এই জুটিতে আসে ৮৯ রান। এনামুল দলীয় ৯৮ রানের মাথায় আউট হলে ভাঙে এই জুটি।

এরপর ৯৯ রানের মাথায় শামসুর রহমান রান আউট হলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ঢাকা। কিন্তু তামিম আছেন যে, সেটা আর হতে দিলেন না। এমন ঝড় তুললেন যে আর কারো খেলারই প্রয়োজনই পড়ল না।

শেষ দিকে তার সাথে অপরাজিত ছিল ইমরুল কায়েস। ২১ বলে তিনি করেন ১৭ রান।তামিমের দুরান্ত সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান করে কুমিল্লা।

কুমিল্লা দেওয়া ২০০ রানে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমপ ঢাকার শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রান আউট হয়েছেন সুনীল নারিন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে মিড উইকেট অঞ্চলে ঠেলে সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন উপুল থারাঙ্গা। বোলার সাইফউদ্দিন বলে ধরে স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দেন সরাসরি থ্রোয়ে। নারিন তখন অনেকটা দূরেই। শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারায় ঢাকা।

এরপর কুমিল্লার বোলারদের উপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দেন উপুল থারাঙ্গা এবং রনি তালুকদার। দুজনে মিলেন এমন ঝড় তুলেন যে একটা সময় ঢাকার জয় কয়েক ওভার বাকি থাকতেই হয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। মাত্র ৯ ওভারেই ১০০ রান পূর্ন করেছিলেন তারা।

তবে ৯ম ওভারের শেষ বলে উপুল থারাঙ্গা আউট হলে ভাঙে এই বিপজ্জনক জুটি। এরপর কুমিল্লার বোলাররা চেপে ধরে ঢাকার ব্যাটসম্যানদের। এমনভাবেই চেপে ধরে যে তারা আর নিশ্বাস ছাড়ার সময়টুকুও যেন পাচ্ছিল না। ১২০ রানের মাথায় মাত্র ৩ রান করে বিদায় নেয় সাকিব। তার বিদায়েরে পরই বিদায় নেন রনি তালুকদার। ৩৮ বলে ৬৬ রান করেন তিনি।

এরপর হতাশ করেছেন দুই ক্যারিবীয় আন্দ্রে রাসেল আর কাইরন পোলার্ড। রাসেল ৩ বলে ৪ আর পোলার্ড ১৫ বল খেলে মাত্র ১৩ করে আউট হন। ম্যাচটা আসলে ঢাকার হাত থেকে ছুটে গেছে তখনই। পরের ব্যাটসম্যানরা আর জয় পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেননি দলকে।২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানেই থামে ঢাকার ইনিংস। কুমিল্লা পায় ১৭ রানের এক বড় জয়।ফলে দ্বিতীয় বারের মতোন বিপিএলের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলে নেয় নাফিজা কামালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।

বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরা হন তামিম ইকবাল। তবে ২৩ উইকেট নিয়ে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়ে টুর্নামেন্ট সেরা হন ঢাকার অধিনায়ক সাকিব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ২০ ওভারে ১৯৯/৩ (তামিম ১৪১*, এনামুল হক বিজয় ২৪, ইমরুল ১৭*)।

ঢাকা ডায়নামাইটস: ১৮২/৯ (রনি ৬৬, থারাঙ্গা ৪৮, সোহান ১৮;ওয়াহাব রিয়াজ ৩/২৮, সাইফউদ্দিন ২/৩৮, পেরেরা ২/৩৫)।

ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১৭ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: তামিম ইকবাল (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)।

টুর্নামেন্ট সেরা: সাকিব আল হাসান

দুই দলের আজকের একাদশ:

ঢাকা ডায়নামাইটসঃ সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক),রনি তালুকদার,নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক),সুনীল নারাইন,উপুল থারাঙ্গা, কাজী অনিক,কাইরন পোলার্ড,আন্দ্রে রাসেল,শুভাগত হোম,রুবেল হোসেন ও মাহমুদুল হাসান।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসঃ ইমরুল কায়েস (অধিনায়ক),তামিম ইকবাল, আনামুল হক (উইকেটরক্ষক),শামসুর রহমান,এভিন লুইস, থিসারা পেরেরা,শহীদ আফ্রিদি,মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদি হাসান,ওয়াহাব রিয়াজ ও সঞ্জিত সাহা।

LEAVE A REPLY