কিইউদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে টাইগারদের আজ প্রাপ্তির কিছুই ছিলো না।কারন সিরিজ হাতছাড়া হয়েছিল এক ম্যাচ বাকি থাকতে।আগের দুই ম্যাচে হেরেছিল ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। আজকের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটা আসলে ছিল বাংলাদেশের জন্য সম্মান বাঁচানোর লড়াই, হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।কিন্তু সেটা আর পারলো না।হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানো গেল না।সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি পরেও ৮৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারতে হলো টাইগারদের।

বুধবারের (২০ ফেব্রুয়ারি) সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে লক্ষ্যটা বাংলাদেশের সামনে পাহাড় সমানই।ডানেডিনে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ৩৩০ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। হেনরি নিকোলস (৬৪), রস টেলর (৬৯) ও টম ল্যাথামের (৫৯) ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশকে বিশাল লক্ষ্য দেয় কিউইরা।কিন্তু কিউইদের শক্ত ব্যাটিং লাইন আপের উল্টো দিকে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ শুরুতেই ভেঙে পড়ে। প্রথম ৩ ওভারেই ফিরে যান তামিম ইকবাল। সৌম্য সরকার ও লিটন দাস।

টিম সাউদির আগুনে গোলার সামনে তামিম টিকতে পারেন কেবল ২ বল। শূন্য রানেই লাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এক বল পর ফেরেন সৌম্যও। তার ব্যাট থেকেও আসেনি কোনো রান।

২.১ ওভারে সাউদিকে তৃতীয় উইকেট উপহার দিয়ে ফেরেন লিটন। তার ব্যাট থেকে আসে এক রান। বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের ভরসা মুশফিকুর রহিম কিছুটা সময় চেষ্টা করেও খুব বেশি দূর যেতে পারেননি। ২৭ বলে ১৭ রান করে ট্রেন্ট বোল্টের বলে আউট হন তিনি।

মাহমুদউল্লাহ ১ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ রান তুলে আউট হন গ্র্যান্ডহোমের বলে। ৬১ রানে নেই ৫ উইকেট। তিনশর ওপরে রান তাড়া করে ম্যাচ হারের জন্য এ পারফরম্যান্সই যথেষ্ট!

তবুও দেয়াল হয়ে দাঁড়ান সাব্বির। সঙ্গী সাইফউদ্দিন। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের ১০১ রানের জুটি যেন বলে দিচ্ছিল একটু ধৈর্য্য ধরলেই টপকে যাওয়া যেত ৩৩০-এর পাহাড়। সাইফউদ্দিন ৬৩ বলে ৪৪ রানে ফিরলেও সাব্বির আজ মাঠে নেমেছিলেন বড় কিছু করতে। পেরেছেনও প্রথমবারের মতো তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ৫৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর পরের ৪৬ বলে সাব্বির পেয়েছেন সেঞ্চুরির স্বাদ।

অষ্টম উইকেটে সাব্বিরকে নিয়ে ৬৭ রান যোগ করেন মিরাজ। তার ৩৪ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে পরাজয়ের ক্ষতে দেয় প্রলেপ। সাব্বিরের ১১০ বলে ১০২ রানের ইনিংস বুঝিয়ে দেয় পরীক্ষিত ব্যাটসম্যানদের খানিকটা সঙ্গ পেলে জয় হাতের মুঠোয় ছিল!

বল হাতে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে একাই ধসিয়ে দেন সাউদি। ৬৫ রানে ৬ উইকেট নেন এ পেসার। বোল্ট ২টি এবং গ্র্যান্ডহোম পেয়েছেন ১ উইকেট।

এর আগে টসে হের টাইগার অধিনায়ক মাশরাফির আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কিউইদের। ৫৯ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার কলিন মানরো ও মার্টিন গাপটিল। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে মাশরাফির দারুণ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ৮ রান করা মানরো।

কিন্তু এর ফল ভোগ করতে পারেনি বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান অপর ওপেনার মার্টিন গাপটিল (২৯) সাইফ উদ্দিনের বলে তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন।

তৃতীয় উইকেটে হেনরি নিকোলাস আর রস টেইলর গড়েন ৯২ রানের জুটি। ৮২ বলে ৬৯ রান করা নিকোলাস মেহেদী মিরাজের শিকার হলে জুটির অবসান হয়।

সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া রুবেল হোসেনের শিকার হওয়ার আগে অভিজ্ঞ টেইলর করেন ৮২ বলে ৬৯ রান। কেন উইলিয়ামসনের বদলি অধিনায়ক টম ল্যাথামের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ৫৯ রানের ইনিংস। শেষদিকে জেমস নিশামের ২৪ বলে ৩৭, গ্র্যান্ডহোমের ১৫ বলে ৩৭* এবং স্যান্টনারের ৯ বলে ১৬* রানের দাপটে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের পাহাড় গড়ে।

মোস্তাফিজ ১০ ওভারে ৯৩ রান খরচায় পান দুটি উইকেট(বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ খরুচে বোলিং) । এছাড়া, মাশরাফি, রুবেল, মিরাজ এবং সাইফুদ্দিন একটি করে উইকেট পান।

বাংলাদেশ একাদশ :

তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন।

নিউজিল্যান্ড একাদশ:

মার্টিন গাপটিল, কলিন মুনরো, হেনরি নিকোলস, রস টেইলর, টম ল্যাথাম, জেমস নিশাম, কলিন ডি গ্রান্ডহোম, মিচেল স্যান্টনার, টিম সাউদি, লুকি ফার্গুসন, ট্রেন্ট বোল্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

নিউজিল্যান্ডঃ ৩৩০/৬ (টেলর ৬৯,নিকলস ৬৪,লাথাম ৫৯);মুস্তাফিজ ২/৯৩

বাংলাদেশঃ ২৪২/১০ (সাব্বির ১০২,সাইফুদ্দিন ৪৪,মিরাজ ৩৭); সাউদি ৬/৬৫,বোল্ট ২/৩৭

ফলঃ নিউজিল্যান্ড ৮৮ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরাঃ টিম সাউদি(নিউজিল্যান্ড)
সিরিজ সেরাঃ মার্টিন গাপটিল(নিউজিল্যান্ড)

LEAVE A REPLY