তাসকিন আহমেদ, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ফাস্ট বোলিং বিভাগের অন্যতম প্রতিভাবান পেসার। ধুমকেতুর মতো শুরুর পর বোলিং এ্যাকশনে সমস্যা, সে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ফিরলেও পরক্ষণেই কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন এই ক্রিকেটার।

গেলো বিপিএলে এই প্রতিভাবান পেসারকে দলে ভিড়ায় সিলেট সিক্সার্স। হারিয়ে যাওয়া তাসকিন যেন ফিরেছিলেন সিলেটের মাধ্যমেই। বিপিএলে বিশ্বের বাঘা বাঘা ক্রিকেটারদের নাকানিচুবানি খাইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বিপিএলের শীর্ষ পাঁচ উইকেট শিকারীর তালিকায়। নির্বাচকদেরও চোখ এড়ায়নি ব্যাপারটি।

ফল হিসেবে চলতি নিউজিল্যান্ড সিরিজের বহরে ডাক পড়ে তাসকিনের৷ কিন্তু বিধিবাম, বিপিএলের শেষ ম্যাচে ইঞ্জুরিতে পড়ে ছিটকে যান পুরো সফর থেকেই। কিন্তু তাসকিন বসে থাকেন নি, পুনর্বাসনের সময়ে নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে কাজ করে গেছে এই ক্রিকেটার। তাই এবার তার প্রত্যাশা ডিপিএলের সুপার লীগ থেকেই বাইশ গজে ফিরতে পারবেন তিনি।

‘ইনশাআল্লাহ আমিও আশা রাখি। কোনো সমস্যা না হলে সব কিছু এখন যেভাবে যাচ্ছে সেভাবে চলতে থাকলে অবশ্যই ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের সুপার লীগ থেকে খেলতে পারব।’

নিজের চেষ্টায় ইঞ্জুরি কাটিয়ে উঠছেন খুব দ্রুতই। রবিবার থেকে তাকে স্ক্র‍্যাচ ছাড়া চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছেন ফিজিওরা।

‘আল্লাহ রহমতে এখন ভালো। তিন সপ্তাহ শেষ হল। আমি এত দিন ক্র্যাচে করে হেঁটেছি। কাল থেকে ইনশাআল্লাহ ক্র্যাচ ছাড়া হাঁটব। আর রিহ্যাব প্রোগ্রামের একটু আপগ্রেড করার শিডিউল দিয়েছে। এক্সারসাইজ আরও বাড়াবো। নিজের কাছেও ভালো লাগছে। এখন আস্তে আস্তে ক্র্যাচ ছাড়া নরমালি দুই পায়ে দাঁড়াতে পারছি। ‘হাটতে পারছি। এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সবকিছু। ভালোর দিকে যাচ্ছে এখন। আমি এখন অন্য এক্সারসাইজ গুলো করছি। আগের চেয়ে ভালো আল্লাহ রহমতে। আশা করি এভাবে চলতে থাকলে আমার জন্য ভালো কিছুই হবে।’

২০১৮ পুরো সালই ইঞ্জুরির সাথে যুদ্ধ করেছেন এই ক্রিকেটার। ২০১৯ সালে ভালো কামব্যাক করলেও পড়েছেন আবারো ইঞ্জুরির কবলে। ফাস্ট বোলারদের জন্য ইঞ্জুরি নতুন কিছু নয়। এ ব্যাপারে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার উদাহরণ টেনে এই স্পিড স্টার বলেন,

‘হ্যাঁ এটা তো অবশ্যই ফাস্ট বোলারের জন্য। তবে ঠিক হয়ে যাবে আশা করি। আমার যেই রোল মডেল, মাশরাফি ভাই, তিনি অনেক স্ট্রাগল করে লিজেন্ড হয়েছেন। তো এটা মানতে হবে, ফাস্ট বোলার হিসেবে ইনজুরি আসবে। যত দ্রুত কামব্যাক করা যায় ততই ভালো। এই যে বললেন, সময়ের কথা। কিন্তু মানসিক ভাবে কঠোর থাকলে কম সময়েও কামব্যাক করা যায়। ইনশাআল্লাহ আমি পারব।’

নিউজিল্যান্ড সিরিজে খেলতে না পারলেও মোটেও হতাশ নন তাসকিন আহমেদ। আসন্ন ডিপিএলে বাইশ গজে ফিরে নিজেকে প্রমাণ করে আবারো চিরচেনা রূপে ফিরতে প্রস্তুত তিনি। খেলতে চান বিশ্বকাপেও।

‘আসলে প্রিমিয়ার লীগ শুরু হলে আমি আমার বেস্ট দিতে চেষ্টা করব। আমার ওয়ার্ল্ড কাপ স্কোয়াডে যেন সুযোগ হয়। ওয়ার্ল্ড কাপ স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়াও তো সহজ কিছু না। এটাও কঠিন। হয়তো বিপিএলে ভালো খেলার কারণে একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু এখনো চ্যালেঞ্জ আছে, সুস্থ থাকা, লীগে সুযোগ হলে ভালো খেলা। তারপর আয়ারল্যান্ড সিরিজ আছে। তো ডেফিনিটলি বাংলাদেশ দলে খেলা ও ধরে রাখা অনেক টাফ চ্যালেঞ্জ।’

LEAVE A REPLY