দোলেশ্বরকে হারিয়ে ডিপিএল টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট ২০১৮-১৯ মৌসুমে দেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয়ে গেল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সফল একটি আয়োজন।আর এই টুর্নামেন্টের প্রথম ফাইনাল মুখোমুখি হয় নুরুল হাসান সোহানের শেখ জামাল ধানমন্ডি এবং ফরহাদ রেজার প্রাইম দোলেশ্বর। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও প্রাইম দোলেশ্বরের মধ্যকার শিরোপা লড়াইয়ের ম্যাচটি দুই দলকেই প্রথম কোনো শিরোপার হাতছানি দিচ্ছিল।কেননা এর আগে ঢাকা লিগের কোনো আসরে শিরোপার মুখ দেখেনি শেখ জামাল। অনুরূপ প্রাইম দোলেশ্বরও।তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের এই লড়াইয়ে প্রাইম দোলেশ্বরকে ২৪ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শেখ জামাল।

১২টি দল নিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের মর্যাদার এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি মূলত, টি-টোয়েন্টিতে দেশীয় ক্রিকেটারদের সুজোগ দিতে আয়োজন করে বিসিবি। টুর্নামেন্টের শুরুটা হয়েছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি।অবশ্য দ্রুততার কারণে আসরটিকে বিপিএলের রঙে রাঙিয়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তারপরেও একবারেই হতাশ হয়নি মাঠের ক্রিকেট। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল আর ফাইনাল প্রতিটি ম্যাচই ছিল উত্তেজনায় ঠাসা।সেমি ফাইনালের দুটি আর ফাইনাল সহ তিনটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার হয় গাজী টিভিতে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার (৪ মার্চ)সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় ফাইনাল ম্যাচটি। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শেখ জামালের দলপতি নুরুল হাসান সোহান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ধানমন্ডির ক্লাবটি তোলে ১৫৭ রান। জবাবে, ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারানো প্রাইম দোলেশ্বরের ইনিংস থামে ১৩৩ রানের মাথায়।

ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার ফারদিন আহমেদ ২০ বলে ১৮ রান করেন। আরেক ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন ছিলেন আরও দুর্দান্ত। ৪৪ বলে চারটি চার আর দুটি ছক্কায় তিনি করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৬ রান। তিন নম্বরে নামা হাসানুজ্জামান ৪, নাসির হোসেন ৫, আগের ম্যাচে ২৯ বলে অপরাজিত ৭২ রানের টর্নেডো খেলা জিয়াউর রহমান ফেরেন মাত্র ২ রান করে।

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে উইকেটের একপ্রান্তে থেকে ২৭ বলে তিন বাউন্ডারিতে ৩৩ রান করেন দলপতি নুরুল হাসান সোহান। শেষ ওভারে আউট হন সোহান। শেষ দিকে ব্যাটে ঝড় তোলেন তানবীর হায়দার। মাত্র ১৫ বল খেলে চারটি চার আর একটি ছক্কায় করেন ৩১ রান। ইলিয়াস সানি ৪ আর শহিদুল ইসলাম ০ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে দলপতি ফরহাদরেজা নেন ৩টি এবং আরাফাত সানি, এনামুল হক জুনিয়র, মানিক খান ও সৈকত আলি পান ১টি করে উইকেট।

জবাবে ১৫৮ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রাইম দোলেশ্বরের অধিনায়ক ফরহাদ রেজা ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতেই পারেনি। ২০ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন ফরহাদ রেজা। ওপেনার মোহাম্মদ আরাফাত শুরুটা ভালোই করেছিলেন। ২৩ বলে ৩৩ রান করে ইনজুরির শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার মোহাম্মদ আরাফাত। আরেক ওপেনার সাইফ হাসান ২৮ বলে একটি চার, দুটি ছক্কায় করেন ২৬ রান। এছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। তিন নম্বরে নামা মার্শাল আইয়ুব (৩) ইনিংস বড় করতে পারেননি। ইনিংস বাড়াতে পারেননি ফরহাদ হোসেন (৬), মাহমুদুল হাসান (৩), সৈকত আলি (২) এবং আসলাম হোসেনরা (৩), মানিক খান ৩ রানে বিদায় নেন। আরাফাত সানি ৩ এবং এনামুল হক জুনিয়র ০ রানে অপরাজিত থাকেন।

শেখ জামালের হয়ে শহিদুল ইসলাম ৪টি, সালাউদ্দিন শাকিল ২টি, এবং ইলিয়াস সানি,মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদি পান ১টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব:
২০ ওভারে ১৫৭/৭ (ফারদিন ১৮, ইমতিয়াজ ৫৮, হাসান ৪, নাসির ৫, সোহান ৩৩, জিয়া ২, তানবীর ৩১, ইলিয়াস সানি ৪*, শহিদুল ০*; সানি জুনিয়র ০/২৪, আরাফাত সানি ১/২৫, এনামুল জুনিয়র ১/৩০, মানিক ১/১২, রেজা ৩/৩২, সৈকত ১/৩১)

প্রাইম দোলেশ্বর: ২০ ওভারে ১৩৩/৮ (সাইফ ২৬, সানি জুনিয়র আহত অবসর ৩৩, মার্শাল ৩, ফরহাদ ৬, মাহমুদুল ৩, রেজা ৪৫, সৈকত ২, আসলাম ৩, মানিক ৩, আরাফাত সানি ৩*, এনামুল জুনিয়র ০; নাসির ০/২৬, শাকিল, ইলিয়াস ১/৩৬, শহিদুল, আফ্রিদি ১/১০)

ফল: শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ২৪ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ইমতিয়াজ হোসেন

ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: ফরহাদ রেজা

প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব একাদশঃ সাইফ হাসান, মোহাম্মদ আরাফাত, ফরহাদ হোসেন, মার্শাল আইয়ুব, ফরহাদ রেজা (অধিনায়ক), সৈকত আলী, মাহমুদুল হাসান, আসলাম হোসেন, মানিক খান, আরাফাত সানী ও এনামুল হক জুনিয়র।

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব একাদশঃ ফারদীন হাসান, ইমতিয়াজ হোসেন, নাসির হোসেন, তানভীর হায়দার, ইলিয়াস সানী, শাহিদুল ইসলাম, নুরুল হাসান (অধিনায়ক), জিয়াউর রহমান, হাসানুজ্জামান, সালাউদ্দিন শাকিল ও মিনহাজুল আবেদীন।

LEAVE A REPLY