বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওপেনার বললেও ভুল হবে কি? আসলেই হওয়ার কথা নয় বাংলাদেশের ক্রিকেট গৌরবগাথার অনেক অধ্যায়ই রচিত হয়েছে তার ব্যাটে। টেস্ট,ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি; তিন ফরমেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান তার।লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম লেখানো বাংলাদেশের অনেক অনেক জয়ের নায়ক হয়ে ওঠা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া পরিবার খান বাড়ির সেই কনিষ্ঠ সদস্য দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবালের আজ ৩০তম জন্মদিন।

১৯৮৯ সালের ২০ মার্চ চট্টগ্রামের কাজীর দেউরির খান পরিবারে জন্ম নেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। তার পিতার নাম ইকবাল খান, মা নুসরাত খান ইকবাল। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন তামিম ইকবালের দাদা। ক্রীড়া পরিবারেই জন্ম তামিমের।

পিতা ইকবাল খান ছিলেন আপাদমস্তক ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়ানুরাগী ও ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ। ফুটবল ও ক্রিকেট একসঙ্গেই খেলেছেন দাপটে। সত্তর দশকে ঢাকার ফুটবলের সূর্য যখন মধ্যগগণে, তখন ইকবাল খান ছিলেন নামী ফুটবলারদের একজন।ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম মোহামেডানের অধিনায়ক ইকবাল খান ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটও খেলেছেন। চট্টগ্রাম লিগে তার সেঞ্চুরিও আছে।

চাচা আকরাম খান বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার হাত ধরেই ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে উড়েছিল ক্রিকেটে জয়ের কেতন। বড় ভাই নাফিস ইকবালও ছিলেন জাতীয় দলের স্টাইলিশ ওপেনার, টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানও।এমন পরিবেশে বড় হতে হতে ক্রিকেটটাকেই বেছে নিলেন তামিমও।

৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ফরম্যাট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তরুণ তামিমের।নিজেকে ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিত করে তুলতেও খুব বেশি সময় নেননি। সে বছরই ভারতের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভাঙ্গে এক প্রকার তামিমের ব্যাটেই। ভারতের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে আসে ৫৩ বলে ৫১ রান। বাংলাদেশ পায় জয়। ভারত ছিটকে যায় বিশ্বকাপের আসর থেকে। এখন পর্যন্ত ১৮৯ ম্যাচে ৩৬.১ গড়ে ৭৭.৯ স্ট্রাইক রেটে ৬৪৪০ রান সংগ্রহ করেন। সেঞ্চুরি ১১ টি এবং অর্ধ শতক ৪৪ টি। সর্বোচ্চ স্কোর ১৫৪ রান।

একই বছর ১ সেপ্টেম্বর কেনিয়ার বিপক্ষে অভিষেক হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।এখন পর্যন্ত ৭৫ ম্যাচ খেলে ২৩ গড়ে ১১৬ স্ট্রাইক রেটে রান করেন ১৬১৬। যার মধ্যে সেঞ্চুরি ১ টি এবং অর্ধ শতক ৬ টি। সর্বোচ্চ রান করেন ১০৩।

৪ জানুয়ারি ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তার। ৭ জন খেলোয়াড়ের টেস্ট অভিষেক হয় এ ম্যাচে। তামিমের ব্যাটিং বাংলাদেশকে এক ঐতিহাসিক বিজয় এনে দেয়। এটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট বিজয় এবং দেশের বাইরের মাটিতেও প্রথম টেস্ট জয়।

তামিম ১২৮ রানে তার ইনিংস শেষ করেন এবং অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কারণে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জিতে নেন। এরপূর্বে প্রথম ইনিংসেও তিনি ৩৩ রান করেছিলেন।মুশফিকুর রহিমের পর তামিম ইকবাল বাংলাদেশের ২য় ক্রিকেটার হিসাবে টেস্টে দ্বি-শতক রান করেছেন৷সবমিলিয়ে ৫৮টি টেস্টে ব্যাট হাতে ৯টি শতক ও ২৭টি অর্ধশতকসহ তার রান আছে ৪ হাজার ৩২৭। সবশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে টাইগার দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা যেখানে ক্রিজে দাঁড়াতে হিমসিম খেয়েছে, সেখান তামিম খেলেছেন দুটি অর্ধশতক ও একটি শতকের ইনিংস (৭৪, ১২৬, ৭৪)

২০১৩ সালের ২২ জুন দীর্ঘ দিনের প্রেমিকা আয়শা সিদ্দিকাকে বিয়ে করে সংসার পাতেন দেশ সেরা এই ক্রিকেটার। ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের ঘর উজ্জ্বল করে জন্ম নেয় আরহাম ইকবাল খান।

এই তামিমের সবচেয়ে জ্বলজ্বলে বীরত্বের গল্পটাও খুব বেশি দিনের পুরানো নয়। ২০১৮ তে জাতীয় নায়কে পরিণত হন এই ক্রিকেটার। এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ থেকেই চলে যান হাসপাতালে। কিন্তু মাঠে দেশের খেলা চলছে, কিছুতেই থাকতে চাচ্ছিলেন না সেখানে। চলে আসেন আবার মাঠে।

বাংলাদেশ যখন হারের দুয়ারে। ঠিক তখনই সেই ভাঙা আঙুল নিয়েই নেমে যান মাঠে। মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিয়ে দেশকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন এই দেশ সেরা ওপেনার।

শুভ জন্মদিন তামিম ইকবাল। ক্রিকেট টিউন.কম পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই শুভেচ্ছা। আপনার সার্বিক উন্নতি ও সুস্থতা কামনা করছি।

LEAVE A REPLY