দেশের ক্রিকেটে বাজে আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদে কয়েকদিন আগেই ৪ বলে ৯২ রান দিয়েছিল সুজন মাহমুদ নামের এক পেস বোলার। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গেল ১০ই এপ্রিল ৭ বলে ৬৯ রান দেয়ার ঘটনা ঘটেছে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে।
ফেয়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাবের বোলার তাসনিম হাসান ইন্দিরা রোডের বিপক্ষে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। ইন্দিরা রোডের কোচ আনোয়ারুল মোস্তাকিন টোরে এই বিষয়ে বলেন, ‘মাঠে ক্রিকেটাররা বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার।
এরা উদীয়মান ক্রিকেটার। তারা চায় ভালো ব্যাট ও বল করে আলোতে আসতে। কিন্তু বাজেভাবে আউট হয়ে বা আম্পায়ারিংয়ের বাজে সিদ্ধান্তের শিকার হলে এরা প্রায় সময় কাঁদে।
কিন্তু সেদিন আমার দলের এই বোলার মাঠে থাকা সব ক্রিকেটারের সঙ্গে মিলে এমন প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমরা মাঠের বাইরে থেকে ওদের থামাতে পারিনি। ওরা ক্ষিপ্ত হয়ে এমন করেছে।’
তবে দেশের ক্রিকেটে পর পর দুটি এমন ঘটনা দেখে তদন্তে নেমেছে বিসিবি। ৪ বলে ৯২ রান দেয়ার ঘটনাটির রিপোর্ট এখনও দিতে পারেননি তারা।
মঙ্গলবার রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা থাকলেও এমন দ্বিতীয় ঘটনার কারণে আরো তিন/চার দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্য ও ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান। তদন্তের সময় বাড়ানো প্রসঙ্গে আকরাম খান মানবজমিনকে বলেন,
‘আমরা প্রথমে তদন্ত শুরু করেছিলাম একটি ঘটনা নিয়ে। কিন্তু এখন এক ওভারে ৬৯ রানের ঘটনা চলে আসায় আমাদের আরো কিছুদিন সময় লাগবে। আমরা ফেয়ার ফাইটার্সের টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোলারকে শুনানির জন্য ডেকেছি। কাল (আজ) তারা আসবে শুনানিতে।’
এদিকে আসলে ইন্দিরা রোড এবং ফেয়ার ফাইটার্সের সেই ম্যাচে কি হয়েছিল এটা নিয়ে ইন্দিরা রোডের কোচ টোরে বলেন, ‘দেখেন সেই ম্যাচে ফেয়ার ফাইটার্স ১৭.৩ ওভার খেলতে পারে। এতে ১০ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে তুলে ১০২ রান। আমাদের তিনজন ব্যাটসম্যান পরপর এলবিডব্লিউ’র শিকার হয়।
এরপর বল করতে নামলে ৭ ওভার বল করার পর তাসনিমের বলেও বাজেভাবে ওয়াইড দেয় আম্পায়ার। যে কারণে বোলার মাঠে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আমরা ওদের থামাতে পারিনি।’
তবে ইন্দিরা রোডের কোচ আরও মনে করেন প্রতিবাদ যে কোন ভাবেই হতে পারে। প্রতিবাদের কোন ভাষা নেই আসলে। তিনি বলেন, ‘আসলে এটা প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। অন্যভাবে প্রতিবাদ করা যায়। ক্রিকেটার আমাদের কাছেও জানাতে পারতো।’
অন্যদিকে ফেয়ার ফাইটার্সের কোচ জানালেন তারা নাকি আম্পায়ারিং নিয়ে আগেও অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কোন অভিযোগেই নাকি কাজ হয়নি। তার মতে, ‘না আসলে আমরা আগেও অনেক অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখানে অভিযোগে কোন কাজ হয় না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটের এক কর্মকতা মনে করেন তৃতীয় বিভাগ থেকেই সবাই খেলা শুরু করে। কিন্তু এসব দেখে অনেকে খেলা ছেড়ে দেয়। আম্পায়ারদের এসব কর্মকান্ডের উপর নজর দিতেও বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন,
‘আসলে এখানে আম্পায়ার বা দলগুলোর খুব ক্ষতি হবে তা নয়। মূলত এই সব ঘটনাতে উঠতি ক্রিকেটাররাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তৃতীয় বিভাগ হলো ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের পাইপ লাইন।
এখানে যদি এমন ঘটনা ঘটতে থাকে তাহলে আমি মনে করি তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ বেশ ভালোভাবেই হুমকির মুখে রয়েছে। এখনই ক্লাবগুলোর সঙ্গে বসে এই সমস্যার সমাধান করা উচিত বিসিবির।’
দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ করেছেন ফেয়ার ফাইটার্সের কোচ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা যতটা জানি ৯ই এপ্রিল এক্সিওম ক্রিকেটার্স ও মাতুয়াইল ক্রিকেট একাডেমির বিপক্ষে ম্যাচটি পাতানো ছিল। কারণ সেই ম্যাচে এক্সিওম ফতুল্লাকে ১০ উইকেট হারিয়ে করেছিল ২৩৪ রান।
আর জবাব দিতে নেমে মাতুয়াইল ক্লাব মাত্র ৩৪ রানে অল আউট হয়ে যায়। সেই ম্যাচে একজন বোলারই পান ৯ উইকেট। আমাদের যখন শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে আমরা মনে করি সেই ম্যাচেরও তদন্ত প্রয়োজন। তা না হলে আসলে সত্যিকারের ঘটনা জানা যাবে না।’
ক্রিকেট ও স্কোরার্স বিডি নামের দু’টি ওয়েবসাইট তৃতীয় বিভাগ থেকে শুরু করে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের স্কোরকার্ড প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু সেখানে গিয়ে ম্যাচটির সংক্ষিপ্ত স্কোর পাওয়া গেলেও পূর্ণাঙ্গ ডাটা খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে ডাটা যেন সবাই দেখতে না পারে তাই তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সূত্রঃমানবজমি

LEAVE A REPLY