ম্যাচটি খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল।হারলে বাংলাদেশের র্যাটিং পয়েন্ট কমে যেতো এমন কি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলাটা বাংলাদেশের অনেকটা অনিশ্চিয়তার মধ্যে থাকত।কিন্তু সকল সম্ভাবনার অবসান ঘটিয়ে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ শ্রীলংকাকে হঠিয়ে ওডিআই র্যাংকিংয়ে ছয়ে চলে আসল এমনকি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে টাইগার বাহিনী পুরো নিশ্চিন্তেই।

 

ইনিংসের প্রথম বলেই ডাউন দ্যা উইকেট এসে ছক্কা হাঁকান তামিম। তবে বাংলাদেশের এমন দারুণ শুরুর রেশ বেশিক্ষণ ছিল না। এক বল পরেই কোরি অ্যান্ডারসনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য। আগের দুই ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকানো এ ব্যাটসম্যান ফিরে যান ০ রান করে। এরপর হাল ধরেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান।

 

প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার পর দলের ভিত গড়ে দেন দুজন। লক্ষ্যটাকে ধরাছোঁয়ার মধ্যেই রাখে তাদের জুটি। দুজনেই তুলে নেন অর্ধশতক। বেশ স্বছন্দে ব্যাটিং করেন তামিম ও সাব্বির। তাদের ১৩৬ রানের জুটিতে ম্যাচ বাংলাদেশের অনূকূলে চলে আসে।

 

৬ চার ও ১ ছক্কায় ৬৫ রানের ইনিংস খেলে স্যান্টনারের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বেননেটের হাতে ধরা পড়েন তামিম। এরপর সাব্বিরের সাথে যোগ দেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ভুল বোঝাবুঝি হয় তাদের মাঝে। রান নেওয়ার সময় দুইজনই চলে আসে একপ্রান্তে। ফলাফল সাব্বিরের রান আউট। ৮৩ বলে ৬৫ রান করে বিদায় নেন সাব্বির। মোসাদ্দেকও ফিরে যান পরের ওভারে। জিতান পেটেলের ভেতরে ঢোকা বলে বিভ্রান্ত হয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন মোসাদ্দেক।

 

 

সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ৩৯ রান যোগ করেন মুশফিকুর রহিম। কিছুটা ধীরলয়ে ব্যাটিং করছিলেন সাকিব। খোলস থেকে বের হতে বেননেটকে হুক করেন তিনি। কিন্তু বাউন্ডারির কাছে ধরা পড়ে বিদায় নেন ৩২ বলে ১৯ রান করে। সাকিবের বিদায়ের পর ৬৮ বলে ৭২ রান প্রয়োজন ছিল টাইগারদের।

 

উইকেট আগলে রেখে এগিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম। দলের প্রয়োজনে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে খেলাও নিজেদের অনুকূলে রাখে এ জুটি। বল আর রানের ব্যবধানে রানকে বাড়তে দেননি মুশফিক ও রিয়াদ। তাদের অনবদ্য ৭২ রানের জুটিতে ১০ বল হাতে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৬ বলে ৪৬ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন রিয়াদ। ৪৫ বলে ৪৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মুশফিক।

 

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ২৭০ রানের পুঁজি গড়েছিল কিউইরা। প্রথম ওভারেই নাসিরের ক্যাচ ফসকালে জীবন পায় ওপেনার টম লাথাম। জীবন পেয়ে করেন ৮৯ রান।

 

দলীয় ২৩ রানের মাথায় মুস্তাফিজুর রহমানের বলে সাকিবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন লুক রঞ্চি। এরপর ব্রুম ও লাথাম মিলে ১৩৩ রান যোগ করেন। যেই নাসিরের হাতে জীবন পেয়েছিলেন, তার হাতেই বধ হন লাথাম। দলীয় ১৬৭ রানের নাসিরের বলে বোল্ড হন তিনি। এর আগে ১৫৬ রানের মাথায় ব্রুমকেও ফেরান নাসির। বোলাররা উইকেটের বেশ কিছু সুযোগ সৃষ্টি করলেও ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় জীবন পেয়ে যাচ্ছিল নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা।

 

কোরি অ্যান্ডারসন ৩২ বলে ২৪ রান করে সাকিবের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ফিরে যান রিয়াদের ক্যাচে পরিণত হয়ে। কোরির বিদায়ের পর কিউইদের চেপে ধরে টাইগাররা। দ্রুত ফিরে যান নিশাম। মাশরাফির বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন রিয়াদের হাতে। এরপর সান্টনারকে বোল্ড করেন সাকিব। পরের ওভারে ১ রান করা মুনরো মাশরাফির শিকার হন। দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নিউ জিল্যান্ড। এক প্রান্ত আগলে রাখা রস টেলর ৫৬ বলে ৬০ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২৭০ রান করে থামে তারা।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ নিউ জিল্যান্ড ২৭০/৮, ৫০ ওভার

লাথাম ৮৪, ব্রুম ৬৩, টেলর ৬০

সাকিব ২/৪১, নাসির ২/৪৭, মাশরাফি ২/৫৫

 

বাংলাদেশ ২৭১/৫, ৪৮.২ ওভার

 

তামিম ৬৫, সাব্বির ৬৫, রিয়াদ ৪৬, মুশফিক ৪৫

প্যাটেল ২/৫৫, বেননেট ১/৪৭, স্যান্টনার ১/৫

LEAVE A REPLY