আগেই জানা গিয়েছিল, বৃহস্পতিবার কোচ সম্পর্কিত কোনো ঘোষণা আসতে পারে। বিসিবি ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির সভাপতি আকরাম খান দু’দিন আগে জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার বিসিবিতে সাক্ষাৎকার দিতে আসবেন স্টিভ রোডস। আগেরদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একই কথা জানিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

বৃহস্পতিবার সকালেই ঢাকা এসে পৌঁছান সাবেক এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। দুপুরের মধ্যে বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে না হতেই ঘোষণাটা চলে আসলো, ‘আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ হচ্ছেন স্টিভ রোডস।’

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দায়িত্ব ছাড়ার পর ৬ মাসেরও বেশি সময় কোচশূন্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এরই মধ্যে ঘরের মাঠে প্রধান কোচ ছাড়াই তিন জাতি ক্রিকেট, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সিরিজে খেলেছে টাইগাররা। ওই সময় দায়িত্ব পালন করেছিলেন রিচার্ড হ্যালসল এবং খালেদ মাহমুদ সুজন।

এরপর শ্রীলঙ্কার নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ খেলতে গিয়েছিল কোর্টনি ওয়ালশের অধীনে। সেই টুর্নামেন্টের পরও কেটে গেছে অনেক। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আর কোচ হিসেবে পায়নি কাউকেই। সর্বশেষ কোচ নিয়োগ দেয়ার জন্য ভারতের বিশ্বকাপজয়ী এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কোচ গ্যারি কারস্টেনের স্মরণাপন্ন হয়।

আইপিএল শেষ করেই গ্যারি কারস্টেন বাংলাদেশে চলে আসেন। বৈঠক করেন বিসিবি কর্মকর্তামসহ প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে। বাংলাদেশ দলের আভ্যন্তরীন অবস্থা জানার জন্য তিনি বৈঠক করেন কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গেও। জানা গেছে, আইপিএল চলাকালীন সময়েই সাকিব আল হাসান এবং মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন কারস্টেন। সবকিছুর আলোকে তিনি নিজের পরামর্শ দিয়ে যান।

কারস্টেনের পরামর্শেই ইংল্যান্ডের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান স্টিভ রোডসকে কোচ হিসেবে সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য ডাকা হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালেই ঢাকায় এসে পৌঁছান তিনি। দুপুরের মধ্যেই তিনি বৈঠক করেন বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে। মূল আলোচনাটা হয় বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে। সেখানে স্টিভ রোডস নিজের কোচিং দর্শনের রূপরেখা প্রণয়ন করেন বিসিবির সামনে।

বিসিবি ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান আগেই জাগো নিউজকে জানিয়ে রেখেছিলেন, ‘রোডস নিজের লক্ষ্য-পরিকল্পনা এবং কোচিং কলাকৌশল সম্পর্কে একটি উপস্থাপনা দেবেন। এরপরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তাকে সাকিব-তামিমদের অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে কি-না।’

সেই প্রেজেন্টেশন নিশ্চয় মনঃপূত হয়েছে বিসিবির। যে কারণে, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজেই ঘোষণা দিলেন, ‘স্টিভ রোডসই বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ। তিনি দুই বছরের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’

স্টিভ রোডসকে নিয়োগ দেয়ার পেছনে মূলতঃ বড় একটি চিন্তা কাজ করেছে। সেটা হচ্ছে, ২০১৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ক্রিকেট। আর মাত্র ১ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে বসবে বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর। ইংলিশ কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচয় আছে- ওভাল, লর্ডস, নর্দাম্পটন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহামের কন্ডিশন কেমন, উইকেটের চরিত্র কী এবং সর্বোপরি ইংলিশ কন্ডিশনে ভালো খেলার রহস্যটাই বা কি- তা একজন ইংলিশেরই সবচেয়ে ভালো জানা। সে চিন্তা থেকেও বিসিবি একজন ইংলিশ কোচ নিয়োগের কথা ভাবছে।

বিসিবি ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির সভাপতি আকরাম খান জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘ঈদের পর ১ সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন স্টিভ রোডস। অর্থাৎ ২০ থেকে ২২ তারিখের মধ্যেই সাকিব-তামিমদের দায়িত্ব নিয়ে নেবেন তিনি।’ মোট কথা, স্টিভ রোডসের অধীনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাবে বাংলাদেশ।

  • সূত্রঃজাগো নিউজ২৪.কম

LEAVE A REPLY