দরজায় কড়া নাড়ছে ২১তম বিশ্বকাপ। রাশিয়াতে আগামী মাসেই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বযজ্ঞ। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে সবদলই ঘোষণা করেছে তাদের প্রাথমিক দল। কয়েকটা দেশ পুরো ২৩ সদস্যের দলই ঘোষণা করেছে। কিন্তু এখানে একটা দিক দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনা। ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্সের বিচারে বর্তমান মৌসুমে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের ফুটবলারদের গোল অন্য সব দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরদের থেকে অনেক বেশি।

ফুটবলে আর্জেন্টিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হল ব্রাজিল। ব্রাজিলের ২৩ সদস্যের দলে সুযোগ পাওয়া চার আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ভেতর সবার চেয়ে এগিয়ে নেইমার। বর্তমান মৌসুমে ৩০ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ২৮টি। এছাড়াও দলে সুযোগ পেয়েছেন লিভারপুল তারকা রবার্তো ফিরমিনো। বর্তমান মৌসুমে ৫২ ম্যাচে ২৭ গোল করেন তিনি। দলে সুযোগ পাওয়া আরেক স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল হেসুস করেছেন ৫৩ ম্যাচে ২৪ গোল। প্রধাণত মিডফিল্ডার হলেও ডগলাস কস্তাকে স্ট্রাইকার হিসেবে দলে রেখেছেন ব্রাজিলিয়ান কোচ তিতে। তিনি করেছেন ৪৭ ম্যাচে ৬ গোল। শাখতার দনেতস্কের এটাকিং মিডফিল্ডার ফ্রেড ক্লাবের হয়ে ৩৪ ম্যাচে ৭ গোল করে সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বকাপ দলে। যেখানে চারজনের সম্মিলিত গোল ৯২টি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের ফুটবলার লিওনেল মেসি বর্তমান মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সি গায়ে করেছেন ৫৪ ম্যাচে ৪৫ গোল। দলে সুযোগ পাওয়া আরেক তারকা স্ট্রাইকার আগুয়েরো ম্যান সিটির হয়ে করেছেন ৩৯ ম্যাচে ৩০টি। ২০১৪ বিশ্বকাপে প্রধান স্ট্রাইকার হিসেবে হিগুয়াইন সুযোগ পেয়েছেন ২০১৮ বিশ্বকাপেও।

জুভেন্টাসের হয়ে তিনি করেছেন ৫০ ম্যাচে ২৩ গোল। তার আরেক ক্লাব সতীর্থ দিবালাও সুযোগ পেয়েছেন আর্জেন্টিনা দলে। তিনি করেছেন ৪৬ ম্যাচে ২৬ গোল। চমক হিসেবে বোকা জুনিয়র্সের এটাকিং মিডফিল্ডার ও উইঙ্গার হিসেবে খেলা ক্রিস্টিয়ান পাভন সুযোগ পেয়েছেন আর্জেন্টিনা দলের আক্রমণভাগে। বোকার হয়ে বর্তমান মৌসুমে তার গোল সংখ্যা ৭টি। এই পাঁচ জনের সম্মিলিত গোল ১৩১টি।

বিশ্বকাপে আরেক দল শক্তিশালী দল গ্রিজমানের ফ্রান্সের আক্রমণভাগের গোলসংখ্যা ১১৮টি। এরপরেই রয়েছে রোনালদোর পর্তুগাল। তাদের আক্রমণভাগের সবার গোলসংখ্যা ৮৭টি। এছাড়া বিশ্বকাপ জিততে পারে এমন দলগুলোর ভেতর স্পেনের ৫৭টি ও জার্মানির আক্রমণভাগের সবার গোলসংখ্যা ৫৯টি। ২০১৪ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ছিল অন্য সবার থেকে সেরা। এবারও এর ব্যতিক্রম হয় নি। ২০১৮ বিশ্বকাপে আগের মোট হতাশা নিয়ে কাটাতে হয় কি না সেটি সময়েই বলে দিবে।

LEAVE A REPLY