বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম উজ্জল নক্ষত্র বাংলাদেশ।১৯৯৭ সালে কুয়ালালামপুরেই আইসিসি ট্রফিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতার অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ওটা ছিল সবচাইতে বড় টার্নিং পয়েন্ট। তখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্য। সেই কুয়ালালামপুরেই আরেক ইতিহাসে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। তবে এবার ছেলেদের হাত ধরে নয় সেই সাফল্য এসেছে মেয়েদের হাত ধরে। টানা ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ও পরাশক্তি ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মমতন এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছে বাংলাদেশের বাঘিনীরা। যা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা সাফল্য বলে বিবেচিত হচ্ছে। মেয়েদের হাত ধরেই ক্রিকেটে প্রথমবারের বহুজাতিক কোনও টুর্নামেন্টে এই প্রথম শিরোপা আসলো বাংলাদেশের ঘরে।

,শিরোপা জয় মোটেও সহজ ছিল না বাংলাদেশের জন্য। শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরে অন্য রূপে সালমারা। পাকিস্তান, ভারতকে উড়িয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। ফাইনাল জিততে পারবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। তবে ফাইনালে একাট্টা হয়ে ভারতকে হারিয়ে ছাড়ল বাংলাদেশ।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশি মেয়েদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে নয় উইকেটে মাত্র ১১২ রান তুলে ভারত। জবাবে উত্তেজনা বজায় রেখে শেষ বলে (তিন উইকেট হাতে রেখে) অবিস্মরণীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল নয় রান। উইকেটে ছিলেন রুমানা আহমেদ ও সানজিদা ইসলাম। প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে সানজিদা ইসলাম স্ট্রাইক দেন রুমানা আহমেদকে। দ্বিতীয় বলে রুমানা আহমেদ বাউন্ডারি মারেন। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নেন তিনি। চতুর্থ বলে কৃষ্ণামূর্তির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সানজিদা। পঞ্চম বলে রুমানা আহমেদ এক রান নিয়ে দ্বিতীয় রান নেয়ার সময় রান আউট হয়ে যান। শেষ বলে দরকার ছিল দুই রান। তখন স্ট্রাইকে জাহানারা আলম। অপর প্রান্তে অধিনায়ক সালমা খাতুন। শেষ বলে মাথা ঠান্ডা রেখে তারা দুজন দুইবারের জন্য প্রান্ত বদল করে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।

LEAVE A REPLY